Sunday, July 12, 2026
Sunday, July 12, 2026
Homeবিশেষ প্রতিবেদনতিস্তা পাড়ে জিওব্যাগ চাহিদার তুলনায় কম, নদীর কিনারে ঝুঁকিতে অসংখ্য বসতঘর।

তিস্তা পাড়ে জিওব্যাগ চাহিদার তুলনায় কম, নদীর কিনারে ঝুঁকিতে অসংখ্য বসতঘর।

মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।

প্রতিবছর বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাতে ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় শুরু হয় ভয়াবহ নদীভাঙন। তিস্তার পানি বাড়লে তীব্র স্রোতের আঘাতে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হয় ফসলি জমি, বসতভিটা, গাছপালা ও গ্রামীণ সড়কের অংশ। প্রতিবছর তিস্তা নদী ভাঙনের মুখে পরে ডিমলা উপজেলার কালিগঞ্জ, গয়াবাড়ী, খালিশা চাপানী, পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বহু বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। নদীর কিনারে থেকে অল্প দূরত্বে ঝুঁকির মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য বসতঘর। আবারও পানি বাড়লে যে কোনো সময় এসব ঘর নদীতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক পরিবার। কেউ কেউ বাপ দাদার শেষ সম্বল রক্ষায় নদীর পাড়ে ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছেন।

তিস্তা নদীর পানি বাড়লেই নদীভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিস্তা তীরবর্তী কালিগঞ্জ, টেপাখড়িবাড়ী,
পূর্ব খড়িবাড়ীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল। কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে বন্যার আশঙ্কা, অন্যদিকে নদীভাঙনে তাদের জীবন-জীবিকা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। সামনে তিস্তার পানি আরও বাড়লে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। কালিগঞ্জ গ্রামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, তিস্তার পানি বাড়লে যেভাবে নদীভাঙন শুরু হয় তাতে আমরা কোথায় থাকব সেই সময় ঠিকানা খুঁজে পাই না। চোখের সামনে জমি শেষ হয় হারিয়ে যায় ঘরবাড়ি এভাবে প্রতিবছর নদী ভাঙন চলতে থাকলে আমাদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে সর্বস্ব হারাতে হলেও স্থায়ী নদীশাসন বা কার্যকর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ দৃশ্যমান হয় না। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নেরন পূর্ব খড়িবাড়ীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ফেলছে। তবে চাহিদার তুলনায় তা কম তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এই নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তার পানি বাড়লে যেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দেয় সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জরুরী ব্যবস্থা নেওয়াও হয়।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী আরো জানায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৯টায় ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৯৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বাড়ায় কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকার পানি নেমে গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে। বর্তমানে পানি নেমে যাওয়ায় বন্যার শঙ্কাও আপাতত কেটে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে নদীপাড়ের মানুষের দাবি, তিস্তা নদীর পানি বাড়লে শুধু জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলেই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তারা দ্রুত নদীর তীর সংরক্ষণ, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার দাবি করেন। নদীপাড়ের মানুষের প্রশ্ন—প্রতিবছরই যদি ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবিকা হারাতে হয় তবে কবে মিলবে স্থায়ী এই সমাধান।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: