
জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ করেই তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদীর দুই তীর উপচে চরাঞ্চলের আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই উজানের ঢলের প্রভাবে নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকে। সকাল ৯টায় পানি বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও দুপুর ও বিকেলে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় ৫১ দশমিক ৯৫ মিটারে পৌঁছায়, যা বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের মাত্র ২০ সেন্টিমিটার নিচে।
এদিন তিস্তা সেচ প্রকল্প ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনায় ডালিয়ায় এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন পানিসম্পদ মন্ত্রী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি একটি বিশেষজ্ঞ দলও উপস্থিত ছিল। এ সময় থেকেই তিস্তার পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
চর খড়িবাড়ির কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, “নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় হঠাৎ পানি বাড়লে চরের আবাদি জমি তলিয়ে যায়। বর্তমানে জমিতে বাদামসহ বিভিন্ন শাকসবজি রয়েছে। পানি দীর্ঘসময় থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তিস্তা ব্যারেজের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে এবং রাতে আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।



