Monday, October 26, 2026
Monday, October 26, 2026
Homeবিশেষ প্রতিবেদনশিবগঞ্জে মিটল না সারের হাহাকার , আবারো সহস্রাধীক কৃষক সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে...

শিবগঞ্জে মিটল না সারের হাহাকার , আবারো সহস্রাধীক কৃষক সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার না পেয়ে ফেরত গেল।

হাফিজুর রহমান
শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা:

শিবগঞ্জে কিছুতেই থামছে না সারের জন্য কৃষকের হাহাকার। ভাঙ্গছে না সিন্ডিকেট। থামছে না দালালদের দৌরাত্ম। বেশী দামে সার কিনতে পকেট খালি হচ্ছে কৃষকদের। দৌঁড়ঝাপ বেড়েছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের। এটি শিবগঞ্জের চিত্র। কৃষকদের ভাষ্য হলো রবি শস্য আবাদের সময় পার হযে যাচ্ছে ।কিন্তু আমরা উপযুক্ত পরিমান সার না পাওযায় এখনো আবাদ করতে পারছি না।সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে কোন সংকট নেই।পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ আছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাগ করে সার বিতরণ করা হবে। কোন ঝামেলা হবে না। কিছু কৃষক আগাম সার মজুদ রাখার কারনে কৃত্রিম এ সার সংকট দেখানো হচ্ছে। চাহিদা মোতাবেক সার বরাদ্দ আছে।২৬অক্টোবর সোমবার দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,রবি শস্য চাষের জন্য প্রয়োজন ডি এপি সহ বিভিন্ন ধরনের সারের । কিন্তু সার না পেয়ে এখনো বীজ বপন করতে পারিনি। ফলে সময় পার হয়ে বীজ বপন করলে ফলন ভাল না হওয়ার সম্ভবনা। সোমাবার দুপুরে মনাকষা ঈদগাহে মোড়ে সরজমিনে কথা বলে জানা গেছে মনাকষা ইউনিয়নের আলাউদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক ডিলারের কাছে এক বস্তা ডিএপি সারের জন্য হাঙ্গামী গ্রামের মোসা:সুফিয়া বেগম বলেন,আমি নিজে দুইবিঘা জমিতে ভুট্টা ও সরিষা বপনের জন্য তৈরী করেছে। কিন্তু সারের জন্য বীজ বপন করতে পারিনি। সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। শুনছি ডিলার খেতে গেছে। একই গ্রামে বিধবা ইয়াসবানু বলেন ২৪কাঠা জমিতে ভুট্টা ও সরিষা চাষের জন্য এক বস্তা ডিএপি সারের প্রয়োজন,সকাল থেকে একজন বিধবা মহিলা হয়েও দাঁড়িয়ে আছি। এখনো পাইনি।পারচৌকা গ্রামের টুটুল আলি জানান ভুট্টা ও সরিষা মিলে নয় বিঘা জমির জন্য নয় বস্তা ডিএপির দরকার। গত ১০দিন আগে গ্রামের একজনের নিকট হতে চোরাইপথে আসা দুই বস্তা ডিএপি সার বস্তা প্রতি ২১০০ টাকা দরে কিনেছি। আজকে সকাল থেকে ডিলারের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। পাবো কি না জানি না। তবে না পাওয়ার সম্ভবনা খুব বেশী। কারণ ডিলার নিপাত্তা। ৮৮ বছরেরর মুরব্বি নজরুল ইসলাম বলেন শেষ বয়সেও সামান্য এক বস্তা ডিএপি সারের জন্য রাত তিন টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। কিছুক্ষণ আগে সার দিচ্ছিল। এখন আর দিচ্ছে না। মনে হয় ফেরত যেতে হবে। একই কথা জানালেন খড়িয়াল গ্রামের মুরব্বি ইয়াসিন আলি,বনকুল গ্রামের আব্দুস সাত্তার,টোকনা গ্রামে আ:লতিফ টোকনা গ্রামের বিধবা মানুয়ারা বেগম সহ আরো শুধু এ ডিলারের অধিনস্ত শতাধিক কৃষক কান্নাজড়িত কন্ঠে এ কথা জানান। এ সময় সার নাই বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে কৃষকরা হৈ-চৈ শুরু করে মারমুখী হয়ে উঠে। এ সময় ডিলার আব্দুল মালেকের সাথে দেখা করতে লাইন থেকে প্রায় তিন শ গজ দূরে গুদামে গেলে গুদাম বন্ধ পাওয়া যায়। তবে গুদামে সারি সারি বস্তা সার দেখা গেছে। কিন্তু তিনি দেখা করেননি। অন্যদিকে মনাকষা বাজারে আকবর মিয়ার ডিলারের মনাকষা বাজারের অগ্রণী ব্যাংকের নীচে সারের গোডাউনের সামনে সহ্রসাধীক মানুষের লাইন। এখানে মনাকষা ইউনিয়নের ৭,৮ ৯ ওয়ার্ডের কৃষকের সার দেয়ার কথা। কিন্তু অন্য ইউনিয়নের মানুষও সার পেয়েছে কিন্তু মনাকষা ইউনিয়নে কৃষকরা শুধু ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েই থেকে পরে ফেরত গেছে অনেকের অভিযোগ। ঠুঠাপাড়া গ্রামের মাসিদুর রহমান বলেন আমি ১০ বিঘা জমিতে রবি শস্য চাষ করছি। বর্তমানে আমার কম পক্ষে ৫বস্তা ডিএপি সার প্রয়োজন। রাত ৪টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। এখন শুনছি সার নেই। একই গ্রামের নুরুল ইসলাম ৬বিঘা,মুসাফিক ৫বিঘা ,সুমন ২০ বিঘা ইমন ৬বিঘা জমিতে ভুট্টা ও সরিষা চাষের জন্য রাত তিনটা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। এখন শুনছি যে সার নেই। এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। দাঁিড়য়ে থাকা সহস্রাধীক কৃষক সার না পাওযার কথা শুনে উত্তেজনা শুরু করলে পুলিশ আসলেও তাদেরকে নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছ’ক জনৈক কৃষক বলেন স্থানীয় কয়েকজন সিন্ডিকেট তৈরী করে ম্যানেজারকে ম্যানেজ করে দালালদের দিয়ে কৌশলে বিতরণের প্রথম দিকেই ১০/১২ বস্তা করে সার নিয়ে নিচ্ছে। একই চিত্র বিনোদপুর,শ্যামপুর,দাইপুখুরিয়া, কানসাট সহ উপজেলার সব ইউনিয়নেই। এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো: নয়ন মিয়া বলেন কোন সার সংসট,নেই। নেই সিন্ডিকেট। চাহিদা মোতাবেক সার বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।কৃষকদের আগাম সার মজুদের প্রবণতা থেকে ও বেশী পরিমানে সার প্রয়োগের কারণে এ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিা করা হচ্ছে। কৃষি কার্ডের প্রক্রিয়া চলবান। খুব শীঘ্রই এ প্রক্রিয়া শেষ হলে তা কার্যকর করা হবে। তিনি আরো জানান, এ রবি মৌসুমে প্রায় ২৮হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে। সব সময় চাহিদা মোতাবেক সার সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। শুধু নভেম্বর মাসের জন ডিএপি ১২৭৭মে:টন,এম এ পি ৫০ মে:টন, টিএসপি ২০৪ মে:টন ইউরিয়া ৭০০ মে:টন সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অবৈধভাবে সার বিক্রি বন্ধে আমাদের অভিযান চলছে। গত দুই মাসে ৭/৮ অভিযানে প্রা সোয়া তিন লাখ টাকা মূল্যের দুই শতাধিক বস্তা বিভিন্ন ধরনের সার উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে এবং প্রায় ৭৫হাজার টাকা জরিমানা ও কয়েকজননে জেল দেয়া হযেছে।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: