
মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢাল ও ভারী বৃষ্টির কারণে নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর পানি বেড়ে শত শত একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢাল ও একটানা ভারী বৃষ্টির কারণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং হাজার হাজার কৃষকের শত শত একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খালিশা চাপানী, টেপাখড়িবাড়ি, পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই এবং ঝুনগাছ চাপানী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার কৃষি জমি এখন পানিমগ্ন। ডুবে যাওয়া ফসলের মধ্যে রয়েছে আমন ধান, ভুট্টা, চিনাবাদাম, বিভিন্ন শাকসবজি ও মৌসুমি ফসল। এই আকস্মিক বন্যায় ফসল হারানোর আশঙ্কা কৃষক পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা নিয়ে এসেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক বলেন, “তিন দিন ধরে আমার জমির ফসল পানির নিচে। এগুলো চাষ করার জন্য আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়েছি। এখন যদি ফসল নষ্ট হয়ে যায়, আমি জানি না কীভাবে ঋণ শোধ করব। ক্ষতিগ্রস্ত আরেক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “ফসল ডুবে যাওয়ায় আমাদের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এখন হয়তো পরিবারকে সাহায্য করার জন্য আমাদের ঢাকায় যেয়ে কাজ করতে হবে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের মতে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ২০০ হেক্টর কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেহেতু অনেক জমি এখনও পানির নিচে, তাই ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।
ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, পানি দ্রুত না নামলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে এবং চরাঞ্চলের বহু পরিবার মানবিক সংকটের সম্মুখীন হতে পারে।



