Saturday, September 19, 2026
Saturday, September 19, 2026
Homeআইন আদালতডিমলায় গোয়াল ঘর থেকে ৭টি গরু চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ।

ডিমলায় গোয়াল ঘর থেকে ৭টি গরু চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ।

মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।

নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় গরু চুরির ঘটনায় আতঙ্কে আছে উপজেলার কৃষক ও খামারিরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাড়ি ও গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির একাধিক ঘটনায় অনেকেই রাতে গোয়ালঘর পাহারা দিতেছেন। কখন যে কার বাড়িতে চোরেরা হানা দেয়, সেই শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে উপজেলার কৃষক ও খামারীদের।

জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর পোলঝাড়পাড়া গ্রামে শাহজাহান সবুজ সিদ্দিকীর গোয়ালঘর থেকে ৭টি গরু চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি ডিমলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। থানায় দেওয়া অভিযোগে শাহজাহান সবুজ সিদ্দিকী বলেন, রাতের খাবার শেষে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১টা থেকে ৩টার মধ্যে বাড়ির পাশে থাকা গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৩টি বকনা, ১টি ষাঁড় ও ৩টি গাভিন গরুসহ মোট ৭টি গরু নিয়ে যায় চোরেরা। সকালে আনুমানিক ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা গরু চুরির বিষয়টি জানতে পারে। অভিযোগে বলা হয়েছে, চুরি যাওয়া ৭টি গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও গরুগুলোর খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানায় তিনি।

এর আগে ২০ থেকে ২২ দিন আগে গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের সবজি বেচাটারী এলাকায় কৃষক মাজেদুল ইসলামের বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটে। তাঁর দাবি, গভীর রাতে চোরেরা গোয়ালঘর থেকে ৩টি গরু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে একটি ছিল গাভিন গরু। এ সময় মানুষের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে একটি গরু ছুটে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে বাকি দুটি গরু নিয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা। চুরি যাওয়া দুই গরুর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে জানায় তিনি। এ ছাড়া গয়াবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ গয়াবাড়ি ময়দানের পাড় এলাকায় মিজু আহমেদের বাড়িতে ৪-৫ দিন আগে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, ওই রাতে গোয়ালঘর থেকে দুটি গাভিন ও একটি বকনা গরু নিয়ে যায় চোরেরা। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গরু চুরির সঙ্গে জড়িতরা আগে থেকেই বিভিন্ন বাড়ি ও গোয়ালঘরের ওপর নজর রাখেন। পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর গভীর রাতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে গরু নিয়ে যায় চোরেরা এই বলে অভিযোগ করেন তারা। এ কারণে রাত হলেই উপজেলার কৃষক ও খামারিরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। খামারি ও কৃষকের কাছে গরু শুধু গবাদিপশু নয়, এটি অনেক পরিবারের সঞ্চয় ও আয়ের অন্যতম উৎস। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের একটি গরু হারানো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতাও বেড়েছে। গরু চুরির আতঙ্কে উপজেলার অনেক খামারি ও কৃষক এখন রাতে পালা করে গোয়ালঘর পাহারা দিতেছেন। কোথাও কোথাও কয়েকজন মিলে সারা রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থাও করেছে। ফলে এলাকাবাসীদের স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উপজেলার কৃষক পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এ বিষয়ে গয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফ ইবনে ফায়সাল মুন বলেন, ইউনিয়নে চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিষদের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি গরু চুরি প্রতিরোধে ইউনিয়নের সব গ্রাম পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। এ বিষয়ে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আশরাফুল ইসলাম বলেন, গরু চুরি বন্ধ করতে প্রতিটি ইউনিয়নে বিট মিটিং করা হয়েছে। এ ছাড়া চোরাই গরু উদ্ধারের কাজ চলমান রয়েছে। পরে উপজেলার কৃষক ও খামারিরা গরু চুরি বন্ধের জন্য উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রামে রাতে পুলিশি টহল জোরদার ও চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারসহ চোরাই গরু কেনাবেচার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: