Saturday, September 19, 2026
Saturday, September 19, 2026
Homeসারা বাংলা১২ দফা দাবি আদায়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ইজিবাইক মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের মিছিল...

১২ দফা দাবি আদায়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা-ইজিবাইক মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের মিছিল ও সমাবেশ।

সিলেটে নগরীতে ব্যাটারি চালিত রিকশা- ইজিবাইক শ্রমিক-মালিকদের জীবিকা সংকট নিরসনে ও বিআরটিএ-এর লাইসেন্স ও চার্জিং স্টেশন নির্মাণসহ ১২ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের শহীদ সুলেমান হলে ব্যাটারি চালিত রিকশা -ইজিবাইক মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সিলেটের উদ্যোগে এই সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব বুরহান উদ্দিন ভান্ডারীর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট মহানগর সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মুহিবুল ইসলাম, জেলা বাস-মিনিবাস কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুব মিয়া মবু, চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদ, রহমানিয়া প্রতিবন্ধী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আতাউর রহমান খান সামছু, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল জলিল, মাশরুখ জলিল, দেলোয়ার হোসাইন, ধানিছ মিয়া ও আনিস খান, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সিলেট জেলার নেতা প্রণব জ্যোতি পাল, শ্রমিক নেতা রায়হান আহমেদ, মুখলেছুর রহমান, শহীদুল ইসলাম, আসলাম আলী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ৬ নং ওয়ার্ড সভাপতি শহীদ বকস, ৮ নং ওয়ার্ড সভাপতি মর্তুজ আলী, ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি খায়রুল ইসলাম, ১০ নং ওয়ার্ড সভাপতি মিজু আহমেদ, ১৮ নং ওয়ার্ড সভাপতি আবুল কাশেম, ৩৬ নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সোবহান প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে মালিক-শ্রমিকরা একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর দরগাহ গেইট থেকে থেকে বের হয়ে বন্দরবাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়। মিছিলে সিলেট জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা হাজারো ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইক মালিক-শ্রমিকরা অংশ গ্রহন করে তাদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করতে এদেশের শ্রমজীবী মানুষেরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল এবং স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে অসংখ্য রিকশা চালক শহীদ হয়েছেন। অথচ দেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসলেও রিকশা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো পূরণ করা হচ্ছে না। বাংলাদেশের সব বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারলেও শুধু সিলেটে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, যা চরম বৈষম্যমূলক। বর্তমানে প্রশাসনের জব্দ করা হাজার হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা ডাম্পিং স্টেশনে পচে-গলে নষ্ট হচ্ছে, যার ফলে শ্রমিক পরিবারগুলো অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। শ্রমিক নেতারা প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, রিকশা শ্রমিকরা ও মানুষের মতো বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে, তাই দয়া করে তাদের রিজিক বন্ধ করবেন না। বক্তারা আরো বলেন, শ্রমিকরা নিজেদের নায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে আজ সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। আমাদের প্রণের এই ১২ দফা দাবি নিয়ে সবার কাছে যাবো, দাবি আদায় না হলে শ্রমিক সমাজ ভালো করেই জানে কীভাবে রাজপথ থেকে নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হয়।

সমাবেশে মালিক -শ্রমিকদের উত্থাপিত ১২ দফা দাবি তুলে দরেন। দাবিগুলো হচ্ছে যথাক্রমে বিআরটিএ কর্তৃক ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক ও চালকদের দ্রুত লাইসেন্স প্রদান, সিলেট নগরীতে ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচলের ওপর আরোপিত সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার, প্রশাসনের ডাম্পিংয়ে আটকে রাখা সকল যানবাহন ও ব্যাটারি নিঃশর্ত ফেরত দেওয়া এবং বন্ধ হওয়া গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন, বিআরটিএ লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে না পাওয়া পর্যন্ত ভিআইপি সড়ক ব্যতীত অন্যান্য অলিতে-গলিতে এই বাহনগুলো নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ দেওয়া, সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি আধুনিক সড়ক ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ও ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা, সড়কে পুলিশী হয়রানি, নির্যাতন ও অবৈধ টোকেন চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ করা, গ্যারেজগুলোর সুরক্ষায় সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে রিকশার জন্য নির্ধারিত ও বৈধ স্ট্যান্ড চালু, যানবাহন জব্দের পর আদায়কৃত অতিরিক্ত র‌্যাকার বিল কমিয়ে যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে আনা, অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মালিক-শ্রমিক ও নেতাদের ওপর দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বিজ্ঞানসম্মত, আধুনিক ও নিরাপদ মডেলের রিকশা ও ইজিবাইকের ডিজাইন সরকারিভাবে উন্মুক্ত করা এবং চালকদের জীবিকা সুরক্ষা নিশ্চিত করা, প্রান্তিক শ্রমিকদের জন্য রেশন কার্ডের ব্যবস্থা ও শ্রমিকের সামাজিক মর্যাদা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা। সমাবেশে বক্তারা উপরোক্ত দাবিগুলো মেনে নিয়ে শ্রমিকদের জীবন মান উন্নত ও জীবিকা নির্বাহ সহজকর করাতে সংলিষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: