Thursday, June 11, 2026
Thursday, June 11, 2026
Homeজাতীয়ব্যাংকের একাউন্টে টিআইএন লাগবে, আমানত কমার শঙ্কা।

ব্যাংকের একাউন্টে টিআইএন লাগবে, আমানত কমার শঙ্কা।

রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়াতে এবং কর ফাঁকি রোধে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সংস্কারের প্রস্তাব থাকছে। খসড়া প্রস্তাবনা অনুসারে, দেশের যে কোনো ব্যাংকে নতুন ব্যাংক হিসাব খুলতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন প্রদর্শন করতে হবে। বিদ্যমান ব্যাংক হিসাব সচল রাখতেও এই শর্ত মানতে হবে। একই সঙ্গে উৎসে কর বিবরণী জমা না দিলে জরিমানা, বিদ্যুৎ খাতে উৎসে কর হ্রাস এবং স্বর্ণ আমদানিতে খরচ কমানোসহ কয়েকটি রূপরেখা থাকছে আগামী বাজেটে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সাধারণ মানুষ কিছু অর্থ সঞ্চয় করলে তা সাধারণত ব্যাংকে আমানত হিসেবে রাখে। কিন্তু সরকার এমন চিন্তা-ভাবনা করলে তারা ব্যাংকের ধারেকাছেও আসবে না। এতে আমানত কমে যাবে ব্যাংকে। তিনি বলেন, দেশে দেড় থেকে দুই লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে যাদের কোনো টিআইএন নেই। সরকার সেসব প্রতিষ্ঠানকে টিআইএনের আওতায় আনার পদক্ষেপ নিতে পারে। কারণ তাদের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান করযোগ্য।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী, বিশ্লেষক, বিএনপি নেতা মাহবুব চৌধুরী বলেন, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং সিস্টেমে গ্রাহকের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া সহজ হবে, যা ব্যাংকিং চ্যানেলে অবৈধ অর্থপ্রবাহ, অর্থ পাচার এবং সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। উল্টো দিক ও আছে ক্ষুদ্র আমানতকারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বড় একটা অংশ আইনি ঝামেলা ও করের হয়রানি এড়াতে ব্যাংকে টাকা রাখা কমিয়ে দিতে পারে। এতে ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। তবে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে নিয়ে আসতেই এই আইনি কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। এতে মানুষের প্রকৃত সম্পদ ও আয়ের তথ্য গোপন করা বা কর ফাঁকি দেওয়া কঠিন হবে।

এদিকে খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৫০ সিসি বা তার বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেল নতুন করে নিবন্ধন করতে হলেও বাধ্যতামূলকভাবে টিআইএন প্রদর্শন করতে হবে। তবে সাধারণ মোটরসাইকেল মালিকদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, প্রতি বছর নিবন্ধন নবায়নের সময় তাদের অতিরিক্ত কোনো অগ্রিম কর দিতে হবে না। রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে পণ্য সরবরাহের চেইনে নতুন করে কর বসানোর পরিকল্পনা করছে এনবিআর। উৎপাদক বা আমদানিকারকদের কাছ থেকে যখন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা হবে, তখন সরবরাহের মোট মূল্যের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে অগ্রিম কর সংগ্রহ করা হবে। অর্থাৎ প্রতি এক হাজার টাকার পণ্য কেনাবেচায় দুই টাকা কর দিতে হবে। এছাড়া আবাসন খাতে স্বচ্ছতা আনতে জমি বা ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক করের হার পুনর্বিন্যাস করার পাশাপাশি উৎসে কর সংগ্রহের নতুন কাঠামো প্রস্তাব করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: